স্থায়ী অনুদান ও তহবিল বণ্টন নীতিমালা
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ ও ইসলামিক শরিয়াহর কঠোর বিধানে আলাদা ব্যাংক লেজারে দান ও যাকাত পরিচালনা
এই দলিলটি কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশন, রৌমারীর অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রক্রিয়া ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত একটি খসড়া। এটি উপযুক্ত বাংলাদেশী আইনজীবী ও ইসলামী অর্থায়ন বিশেষজ্ঞের দ্বারা পর্যালোচনার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ভূমিকা ও নীতিমালার লক্ষ্য
কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশনে প্রাপ্ত প্রতিটি দান ও অনুদান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রদত্ত এক পরম পবিত্র আমানত। বর্তমান বাংলাদেশে প্রচলিত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, আর্থিক স্বচ্ছতা নীতিমালা এবং ইসলামিক শরিয়াহর অনুশাসন মেনে আমরা প্রতিটি টাকার জন্য দায়বদ্ধ। এই নীতিমালা দাতাদের অনুদান গ্রহণ, ব্যাংকিং প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রকল্পভিত্তিক ব্যয়ের সম্পূর্ণ রূপরেখা তুলে ধরে।
নীতিমালার প্রধান বৈশিষ্ট্য ও মূল প্রতিশ্রুতি
ধারা ১: তহবিলের কঠোর পৃথকীকরণ (Fund Segregation)
ফাউন্ডেশনের হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থায় দুটি প্রধান তহবিল সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাংকিং হিসাবে পরিচালিত হয়:
- তহবিল 'ক' (স্থায়ী দান ও যাকাত): এটি অফেরতযোগ্য তহবিল। সাধারণ সদকা, যাকাত, ফিতরা, ও এককালীন মানবিক অনুদান এখানে জমা হয় এবং সরাসরি খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা অনুদান, শীতবস্ত্র, শিক্ষা সহায়তা ও বন্যাত্রাণে শতভাগ ব্যয় করা হয়।
- তহবিল 'খ' (কর্জ হাসানা মূলধন): এটি সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে ঘূর্ণায়মান থাকে। কোনো অবস্থাতেই তহবিল 'ক'-এর অর্থ দিয়ে ব্যবসা করা বা কর্জ তহবিলে মিশ্রিত করা হয় না।
ধারা ২: অনুদানের বৈধ উৎস ও সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ অনুযায়ী:
- ১. শুধুমাত্র হালাল, আইনসম্মত ও বৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থ দান হিসেবে গ্রহণ করা হবে। কোনো প্রকার অবৈধ, অজ্ঞাত বা কালো টাকা গ্রহণ করা হবে না।
- ২. সমস্ত অনুদান অনুমোদিত ব্যাংকিং চ্যানেল (অনলাইন ব্যাংক ট্রান্সফার, NPSB, BEFTN, RTGS) অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত MFS (বিকাশ, নগদ, রকেট মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট)-এর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।
- ৩. সরাসরি নগদ দানের ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশনের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত মূল মানি রসিদ প্রদান বাধ্যতামূলক।
ধারা ৩: যাকাত ফান্ডের বিশেষ শরিয়াহ পরিচালনা
পবিত্র কুরআনে বর্ণিত যাকাতের ৮টি খাতের মধ্যে শুধুমাত্র চরম অভাবগ্রস্ত, নিঃস্ব ও ঋণগ্রস্তদের সরাসরি সহায়তায় যাকাত তহবিল ব্যয় হয়। যাকাতের অর্থ দিয়ে কোনো স্থায়ী সম্পদ ক্রয় বা প্রশাসনিক খরচ নির্বাহ করা হয় না; বরং সরাসরি উপযুক্ত গ্রহীতাকে খাদ্য, চিকিৎসা বা স্বাবলম্বীকরণ সামগ্রী হিসেবে মালিক বানিয়ে (তামলিক) দেওয়া হয়।
ধারা ৪: অফেরতযোগ্যতা ও রসিদ জারি
যেহেতু অনুদান গ্রহণের সাথে সাথেই তা চরাঞ্চলের সংকটাপন্ন মানুষের জরুরি খাদ্য, চিকিৎসা বা ত্রাণের জন্য নির্ধারিত লেজারে বরাদ্দ হয়ে যায়, তাই একবার পরিশোধিত দান অফেরতযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে। প্রতিটি অনুদানের বিপরীতে স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ভাউচার বা ট্রানজেকশন রসিদ প্রদান করা হয়।
ধারা ৫: বার্ষিক অডিট ও জনসম্মুখে প্রকাশ
ফাউন্ডেশনের যাবতীয় আয় ও ব্যয়ের হিসাব প্রতি অর্থবছর শেষে প্রথিতযশা নিরীক্ষক (Auditor) দ্বারা অডিট করানো হয় এবং অডিট রিপোর্ট আমাদের ওয়েবসাইটে স্বচ্ছতার সাথে উন্মুক্ত রাখা হয়।
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (Money Laundering Prevention Act, 2012), সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ (BFIU) নির্দেশিকা।
কুরআনের সূরা আত-তাওবা (আয়াত ৬০) নির্দেশিত যাকাতের সুনির্দিষ্ট খাত ও সাধারণ সাদাকাহর শরিয়াহ বিধান।
আইনি ও নীতিমালা সূচি
আর্থিক নিরীক্ষা ও অডিট রিপোর্ট
আমাদের প্রতিটি ব্যাংক হিসাব, ভাউচার ও অডিট প্রতিবেদন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।
